সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর শুক্রবার (০৭ এপ্রিল) জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে এ হুমকি দেন হ্যালি। এ সময় তিনি আসাদকে সমর্থন দেওয়ায় রাশিয়ার সমালোচনাও করেন।
বক্তব্যের ইতি টেনে হ্যালি বলেন, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র একেবারে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
হুমকি দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সিরিয়ায় আরো অনেক কিছু করা হবে। দেশটিতে বর্তমানে যে ‘ভুতূড়ে’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা বন্ধে সব ‘সভ্য দেশের’ এগিয়ে আসার এখনই সময়, যা রাজনৈতিক সমাধানের দাবি রাখে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল- আসাদ সরকার ও তার মিত্র রাশিয়া। একইসঙ্গে আসাদের কার্যালয় থেকে হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ড’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভূমধ্যসাগরের মার্কিন রণতরী থেকে সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ৫০-৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে পেন্টাগনের বরাত দিয়ে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। টমাহক নামে ওই ক্ষেপনাস্ত্রের পাল্লা ১০০০ মাইলের বেশি। ১৩৬১ কেজি ওজনের ওই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮৫ কিলোমিটার।
গত ৪ এপ্রিল সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশে দেশটির বিদ্রোহীদের অস্ত্র কারখানা লক্ষ্য করে রাসায়নিক হামলা চালায় সরকারি বাহিনী। এতে বিস্ফোরণে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ২৩ শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়। ওই রাসায়নিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটালো।
হামলার পর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে সিরিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার-আল আসাদ ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আভাস দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিরিয়া ও আসাদ প্রশাসনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছি। এখন আমার দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সেই দায়িত্ব গর্বের সঙ্গে পালন করতে হবে।
সিরিয়া যথেষ্ট সীমা অতিক্রম করেছে বলেও সে সময় মন্তব্য করেন গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বাংলাদেশ সময়: ০০৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮, ২০১৭
জেডএস