৭৫ টেস্টে প্রায় ৪৭ গড়ে ৫ হাজার ২২২ রান, ১৬২ ওয়ানডেতে ৪৩ গড়ে ৫ হাজার ১২২ আর ৩৯ টি-টোয়েন্টিতে ৩৭ গড়ে ৭৮৮ রান-এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিসবাহ উল হকের সফল ক্যারিয়ারের কথাই বলে। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সবুজ গালচেতে মিসবাহ সেই সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের গল্প শোনালেন চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ তামিম ইকবাল-আফতাবদের।
বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বকে সামনে রেখে বেশ আগেভাগেই ঘরে ‘ফিরেছে’ চিটাগং ভাইকিংস। সোমবার বেলা ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরিয়েছে টুর্নামেন্টে তলানির দিকে থাকা এই দল। এরপর চট্টগ্রামের বিভিন্ন একাডেমিতে খেলা খুদে ক্রিকেটারদের টিপস দিয়েছেন দলের ক্রিকেটাররা।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন একাডেমির শতাধিক খুদে ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিল মাঠে। ছিলেন বাংলাদেশ হুইলচেয়ার একাডেমির ক্রিকেটাররাও।
মিসবাহ আর সৌম্য শিখিয়েছেন ব্যাটিং, আর তাসকিন ব্যস্ত ছিলেন বোলিং শেখানোতে। ফাঁকে ফাঁকে খুদেদের কাছ থেকে আসা মিসবাহ ভাই কভার ড্রাইভ কীভাবে খেলতে হয়? তাসকিন ভাই বাউন্স দিতে চাইলে বল কীভাবে ধরতে হবে?-এমন নানা কৌতুহলের জবাবও দিচ্ছেলেন তারা।
মিসবাহ কখনও ইংরেজি আবার কখনও উর্দুতে শিখিয়ে দিচ্ছিলেন ব্যাটের গ্রিপ, ব্যাট ধরার নিয়ম। ডিফেন্স কিভাবে করতে হবে। কিভাবে খেলতে হবে কভার ড্রাইব, সোজা ব্যাটেই বা কিভাবে খেলতে হয়। সৌম্য বাংলাতে সেই কথা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন শিশু-কিশোরদের।
তবে শিশু-কিশোরদের প্রতি তাসকিনের বার্তায় বেশি করে ছিলো ভালো মানুষ হওয়ার কথা। তিনি শিশু-কিশোরদের পরামর্শ বলেন, সবার আগে ভালো মানুষ হতে হবে। ভালো মানুষ হলে ভালো বোলার হওয়া যাবে। আর রাখতে হবে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস।
আফতাব আহমেদ ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া শ্যামলি আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র মাহির এসেছিলেন মিসবাহ-সৌম্য থেকে শিখতে।
কথা হয় তার সঙ্গে। কেমন লাগলো বলতেই একরাশ মুগ্ধতা ঝরল ছোট্ট মাহিরের কণ্ঠ থেকে।
‘ব্যাটিংয়ের বেসিকটা শিখলাম মিসবাহ উল হকের কাছ থেকে। তার মতো এতোবড় ক্রিকেটারের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ কাজে লাগাতে চাই। ’-বলে দিলেন ভবিষ্যতে ভালো কিপার ও ব্যাটসম্যান হওয়ার স্বপ্ন বোনা মাহির।
ক্রোডিয়াল ক্রিকেট একাডেমি চট্টগ্রাম শাখায় ক্রিকেট শেখা মো. সাইদুল ইসলাম তো সরাসরি বলে দিলেন, বেসিক, ডিফেন্স আর কভার ড্রাইভ কিভাবে খেলতে হয় শিখে নিয়েছি ভালোভাবে। এবার থেকে সেভাবেই অনুশীলন করবো।
জাতীয় হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলের হয়ে খেলা মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের যেনো স্বপ্ন পূরণই হলো-‘এর আগে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এবার তো বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গেও দেখা হলো, কথা হলো। বিভিন্ন পরামর্শ দিলেন। সারাজীবন মনে থাকবে দিনটা। ’
বিকেল চারটার দিকে হোটেলে ফিরতে মিসবাহ-রনকি-সৌম্য-তাসকিনরাও যখন গাড়ি ধরছিলেন তখনও সেই গাড়ির চারপাশে খুদে ক্রিকেটারদের ভিড়। সবাই শান্ত-কোমল। –
তাদের চোখজুড়ে তাদের কেবল প্রশান্তির আভা।
হবেই না বা কেনো?
আজ যে নিঃশ্বাসের দূরত্বে দাড়িয়ে ‘বড়’ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ক্রিকেটশিক্ষা নেওয়া হলো…
বাংলাদেশ সময়: ১৯২৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২০, ২০১৭
টিএইচ/টিসি