রাজস্থান: জাত-পাতের ঊর্ধ্বে উঠে এক দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভিন্ন জাতের প্রেমিককে বিয়ে করতে বাধা দিয়ে মেয়েকে বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে রাজস্থান হাইকোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে।
প্রেমিকের সঙ্গে মেয়ের বিয়েকে মেনে নিতে হবে- মেয়ের পক্ষে এভাবেই রায় দিয়েছেন বিচারপতি এইচ এল দাত্তু ও বিচারপতি সি নাগাপ্পনকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।
রাঘবেন্দ্র সিংহ রাঠোর নামে রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতির মেয়ে সুপ্রিয়া রাঠোর গত মাসেই সুপ্রিম কোর্ট ও রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতিদের ই-মেইল পাঠিয়ে তাকে গৃহবন্দী করে রাখার কথা জানিয়ে সাহায্য চান। এরপর তার প্রেমিক সিদ্ধার্থ মুখার্জি গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সিদ্ধার্থ পিটিশনে অভিযোগ করেন, সুপ্রিয়া তাকে ভালোবাসে, বিয়ে করতে চায় কিন্তু বিয়ে ঠেকাতে তাকে জোর করে আটকে রেখেছেন সুপ্রিয়ার বাবা বিচারপতি রাঠোর। সিদ্ধার্থ আরও দাবি করেন মেয়েকে কোনো স্বজাতীয় ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দিতে চান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধার্থের পিটিশন গ্রহণ করে জয়পুরের গাঁধীনগর থানা পুলিশকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সুপ্রিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে সুপ্রিয়াকে সোমবার বেঞ্চের সামনে হাজির করানো হলে তিনি বলেন, বাবা-মার বিরুদ্ধে তার কোনো রাগ নেই। কিন্তু তিনি প্রেমিক সিদ্ধার্থ মুর্খাজিকেই বিবাহ করতে চান।
সুপ্রিয়ার বক্তব্য নথিভুক্ত করে বেঞ্চ পুলিশকে নির্দেশ দেয়, সুপ্রিয়াকে তার প্রেমিকের কাছে যেতে দিতে হবে।
সুপ্রিয়া-সিদ্ধার্থকে বেঞ্চ জানায়, কোনোরকম অসুবিধায় পড়লে তারা শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ স্পষ্ট রায় ঘোষণা করেন, মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক, নিজের ভালোমন্দ বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার আছে। তাই নিজের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সে নিজেই নিতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৩
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউজরুম এডিটর