ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪৩১, ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৬

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

তাপসের গ্রেফতার দাবিতে বামদের বিধানসভা বয়কট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫২৮ ঘণ্টা, জুলাই ৪, ২০১৪
তাপসের গ্রেফতার দাবিতে বামদের বিধানসভা বয়কট তাপস পাল

কলকাতা: চলচ্চিত্রভিনেতা ও সংসদ সদস্য তাপস পালের গ্রেফতারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘ওয়াক আউট’ করেছেন বামফ্রন্টের বিধায়করা।

শুক্রবার অধিবেশন চলাকালে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য তাপস পালের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিধানসভার ‘বয়কট’ করেন বামফ্রন্টের সাংসদরা।



তাদের দাবি, সম্প্রতি তাপস পাল বিরোধীদের হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেন। এ ঘটনার পর ২৭ জুন নদীয়া জেলার তেহট্টে সিপিএম-এর এক পঞ্চায়েত সদস্য খুন হন।

এই প্রসঙ্গটি বিধানসভায় তুলতে চাইলে বামদের অনুমতি দেননি বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাম বিধায়কদের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সভায় হাজির হয়ে বিবৃতি দাবি করা হয়।
এমনকে সেই দাবিতেও কর্ণপাত করেননি বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর প্রতিবাদে নিজেদের আসন ছেড়ে বাম বিধায়করা বিধান সভার ওয়েলে নেমে আসেন। তারা এই নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অধ্যক্ষের সামনে বিক্ষোভ দেখান। এরপর তারা বিধানসভা থেকে বেড়িয়ে আসেন।   

তৃণমূল সংসদ সদস্য ও অভিনেতা তাপস পালের প্রথম দুটি হুমকি ভিডিও টেপ নিয়ে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত। এর মধ্যেই প্রকাশ হয়ে পড়ছে তাপস পালের হুমকির তৃতীয় ভিডিও টেপ।

তাপস পালের তৃতীয় ভিডিও টেপ আসার আগেই মুখ্যমন্ত্রী তোপ দেখিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের ওপর।

তিনি বলেছেন, সংবাদ মাধ্যম অর্থ দিয়ে এই ধরনের টেপ কেনে। এরপর কলকাতার এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী তাপস পালের ঘটনাকে ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলেও দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরই যিনি সংবাদ মাধ্যমকে তাপস পালের ভিডিও টেপ দিয়েছিলেন তিনি প্রকাশ্য হাজির হন। সেই ব্যক্তি ওই অঞ্চলেরই একজন পঞ্চায়েত সদস্য।

তিনি জানান, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ মাধ্যমকে এই টেপ দেওয়া হয়নি। তাপস পালের এই বক্তব্যের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে এবং প্রশাসনের নজর কাড়তেই তিনি এই ভিডিও টেপ সংবাদ মাধ্যমকে দিয়েছেন।

যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই ভারতের রাষ্ট্রপতি পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, তাপস পাল হয়তো মুখ ফসকে এই কথা বলে ফেলেছেন।

কিন্তু পরপর তিনটি জনসভায় গণতান্ত্রিক কাঠামোর সব থেকে উচ্চস্তরের নির্বাচিত সদস্যের এহেন মন্তব্য কতটা ক্ষমাযোগ্য- তা নিয়ে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় গোটা ভারতে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তৃতীয় টেপে দেখা গেছে, তাপস পাল বলছেন, বিরোধীদের মাথার ঠিক মধ্যখানে আঘাত করতে। যেন মাথা দুই টুকরো হয়ে যায়। লোকসভার অধিবেশন শুরু হলেও এই নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।  

আর এ কারণে লোকসভায় হাজির থাকতে তাপস পালকে মমতা নিষেধ করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৩ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।