পাথরঘাটা, (বরগুনা) থেকে: বসে আছি বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার সামনে। আপাতত ঠিকানা পাথরঘাটা ডাকবাংলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পাশে এসে দাঁড়ালেন সহকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন এবং জিএম মুজিবুর। কোথা থেকে তাদের সাথে সাথে ওড়ে এল একটি টুনটুনি পাখিও। কৃষ্ণচূড়ার ডালে শুরু হলো তার দুরন্তপনা। জিএম মুজিবুর ভাইয়ের ক্যামেরাটা পাশেই ছিল। ঝটপট সেটা হাতে তুলে নিয়ে বেশ কয়েকটা ছবিও তুললাম তার! সহজে কি সে ধরা দেয় ক্যামেরায়! যদিও একটু দিল, হালকা বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই উড়াল দিল ফুড়ুৎ করে।
মোবাইলফোনের স্ক্রিনে বৃষ্টির জল এসে পড়ছে। সেই জল আঙুলের ডগায় জড়িয়েই লিখছি এই অপরাহ্ণের গল্প। আমিও ভিজেছি খানিকটা। বৃষ্টি একটু একটু করে বাড়তে শুরু করল। এরপর ডাকবাংলোর বারান্দা থেকে গলা বাড়িয়ে ডাকলেন সহকর্মী জাহিদুল ইসলাম মেহেদী।
স্নিগ্ধ এই বৃষ্টি ছেড়ে আমার উঠতে ইচ্ছে করেছিল না। সামনে পাথরঘাটা কেএম মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে বড় খেলার মাঠ ঘেঁষে বিশাল পুকুর। সেই পুকুরপাড়ে ফুচকা-চটপটির দোকান। স্কুলের মাঠে শিশুদের চলছে দুরন্তপনা, আর বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া রাস্তায় পথিকের আনাগোনা! এই সবকিছু আমাকে আটকে রাখে। এ যেন রিমালের বিপরীতে এক স্নিগ্ধ সৌন্দর্য!
আমার হঠাৎ মনে পড়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জয় বাংলা পল্লীর সাবিনা খাতুনের কথা; রিমালের দিন গলা অবধি পানি উঠে গেলেও তিনি ঘরের আড়া ধরে ভিজেছেন, ঘর ছাড়তে পারেননি মায়ার টানে। মনে পড়ে পাথরঘাটার বারী আজাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনার কথা; সে বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে রাত দুইটার সময় ভিজতে ভিজতে ছুটে গেছে আশ্রয়কেন্দ্রে। আরও মনে পড়ল বরগুনার চর লাঠিমারার বৃদ্ধ আব্বাসী ডাক্তারের কথা; রিমালের রাতে ভিজে ভিজে যে নিজের গরু, নৌকা আর জাল পাহারা দিয়েছেন। তাদের সে সময়ের ভেজার কাছে আমার এই ভেজা কিছুই না।
রাস্তার ঠিক ওপারেই ডাকবাংলোর বারান্দা থেকে আবারও ডাকাডাকি শুরু করলেন সহকর্মীরা। এবার উঠতেই হলো আমাকে! আর যখন বারান্দায় এসে পৌঁছালাম, দেখলাম সহকর্মী জাহিদুল ইসলাম মেহেদী তার মোবাইলফোনে বন্দি করেছেন আমার বৃষ্টি ভেজার ছবিও!
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৩ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০২৪
এইচএমএস/এএটি